মোবাইল ছাড়া বাচ্চার চলেইনা !!

বাবা মার মুখে খুব কমন একটি কথা । মোবাইল না দিলে কেঁদে সব কিছু একাকার করে ফেলে।

চলেন আমরা একটু বয়স অনুযায়ী এনালাইসিস করি ।

বাচ্চার বয়স আনুমানিক ১.৫ বছর হবে, তার সাথে আমার প্রথম পরিচয়। দেখি মোবাইল এর রিলসে একটার পরে একটা দেখতেই আছে। আদর করে কোলে নেয়ার সাথে সাথেই সেই কান্না। মা মোবাইল টা হাতে দিল, বাচ্চা চুপ হয়ে আবার সেই রিলস এর মধ্যে হারিয়ে গেল।

ওর বয়সও আনুমানিক ২-৩ বছর হবে, চারিদিকে নতুন কিছু দেখার আর অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকার বয়স, কখনওবা মেতে উঠবে এইটা কি, সেইটা কি আবিষ্কার করতে। মেট্রোতে আমার পাশেই বসেছিল মায়ের কোলে । মায়ের হাতে মোবাইল আর চলছে কার্টুন। বাচ্চাটার চোখে চারিদিকের ব্যস্ততা, নতুন মুখগুলোকে দেখে অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকা আবার কখনওবা মায়ের কোলে থেকে নেমে গিয়ে ছুটে যাওয়া । মা বার বার শুধু বাচ্চাটাকে কার্টুনে ফেরাতে ব্যস্ত, যেন সে কার্টুনের দুনিয়াতেই ডুবে মায়ের পথচলাকে সহজ করে তোলে ।

বয়স ১৪ বছর , ছেলে বাচ্চা এবং নতুন জানা, নতুনভাবে নিজেকে আবিষ্কার করা সব মিলিয়ে চঞ্চলতাটা মাত্রাতিরিক্ত। বাসায় থাকলে মনে হয় পুরো বাসা মাতিয়ে তোলে । ২৬৫০ বর্গফুটের বাসাতেও মনে হয় যায়গা কমে গেছে । প্রথমবার পরিচয়ে সে নিজেও পুরোটা সময় গল্প, তার চঞ্চলতা দিয়ে মাতিয়ে রাখতে চাইলেও সব সময়ের মতই মা তাকে মোবাইল দিয়ে বসিয়ে দিল এবং তার এইটাই হচ্ছে পানিশমেন্ট । বাহ

অনেকগুলো ঘটনার সাক্ষী হয়ে মাত্র ৩টা উল্লেখ করলাম। আচ্ছা বলেন তো , একটা সময় পরে যদি আপনি বা আমি বলি বাচ্চা মোবাইল ছাড়া কিছু বুঝেনা, এইটা হিপক্রেসি ছাড়া আর কি?

বাসায় ওয়াইফাই, মোবাইলে ইন্টারনেট, মোবাইলে পাসওয়ার্ড নাই, কোন অ্যাপে পাসওয়ার্ড নাই , ইউটিঊব মোবাইলে ডাউনলডেড এই সব কিছু ০-৬ বছরের বাচ্চারা কিভাবে পায়?

এর পরেও যদি আমরা বলি বাচ্চা মোবাইল ছাড়া কিছু বুঝেনা, এইটা আসলে কিপক্রেসি ছাড়া আর কিছু না ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *